অনলাইনে বাড়তি উপার্জন করার ১২ টি উপায়

November 20, 2020 |
Views: 646

প্রতিটি মানুষেরই কিছু না কিছু শখ থাকে। শখের বশে আমরা অনেক কিছু করি – লেখালেখি, ডিজাইনিং, আরও কতো কিছু! আপনার শখের কাজটাকেই যদি আয়ের উপায় হিসেবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে সমস্যা কোথায়?

তাই আমরা আজকে এমন ১২টি কাজ নিয়ে আর্টিকেলটিকে সাজিয়েছি, যেখান থেকে নিজের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে বাড়তি উপার্জন করা সম্ভব।

১। লেখক

আপনার যদি লেখালেখির শখ এবং হাতে যথেষ্ট সময় থাকে, তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে ভাবতে পারেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ব্লগের স্বত্বাধিকারীরা তাঁদের প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট লেখার জন্য ফ্রিল্যান্স অথবা পার্ট টাইম লেখক খোঁজেন।

তথ্যবহুল ব্লগপোস্ট থেকে শুরু করে মার্কেটিং কন্টেন্ট – যে কোনো বিষয়ে লেখার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন একটু চেষ্টা আর সময় ব্যয় করলেই। আপনার কোন ধরনের লেখা লিখতে ভালো লাগে তা বোঝার চেষ্টা করুন এবং পছন্দ অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিয়ে লেগে পড়ুন! শুধু অতিরিক্ত আয় নয়, মূল্যবান অভিজ্ঞতা আর মানসিক শান্তিও পেয়ে যাবেন পছন্দের কাজ করতে পেরে।

কাজ খোঁজার জন্য চাকরি অ্যাপ তো আছেই! তা ছাড়াও বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইট যেমন আপওয়ার্ক, ফাইভার ঘাঁটাঘাঁটি করলে ইংরেজি কন্টেন্ট লেখার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন।

২। ওয়েব অথবা গ্রাফিক ডিজাইনার

বাংলাদেশ কেনো – বিশ্বজুড়ে গ্রাফিক ডিজাইনারের চাহিদা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে! আমরা জানি, আপনারা অনেকেই শখ করে ডিজাইনিং শিখেছেন বা শিখতে চাচ্ছেন। হয়তো ছোটবেলা থেকেই এ ধরনের সৃজনশীল কাজ আপনার ভালো লাগে।

তাহলে আর দেরি না করে ডিজাইনিংয়ের কাজ খুঁজতে শুরু করে দিন। কোম্পানির লোগো, ওয়েবপেইজের টেমপ্লেট অথবা সোশ্যাল মিডিয়া গ্রাফিক – সব ধরনের ডিজাইনের জন্যই অনেক কোম্পানি ফ্রিল্যান্স অথবা পার্ট টাইম ডিজাইনার খোঁজে।

এ ধরনের কাজ করে পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশি ফ্রি সময়টাকে কাজে লাগানো তো হবেই, সেইসাথে আপনার পোর্টফোলিও ভরে উঠবে প্রফেশনাল ডিজাইনে। যা পরবর্তীতে আপনাকে আরও ভালো কাজ পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।

৩। অনুবাদক

পড়াশোনা অথবা চাকরির সুবাদে আমরা সবাই কম-বেশি ইংরেজি জানি। আপনি যদি ইংরেজি অথবা অন্য যে কোনো ভাষায় পারদর্শী হন, তাহলে খুব সহজেই ডকুমেন্ট, ট্রান্সক্রিপ্ট সহ বিভিন্ন লেখা অনুবাদের সুযোগ পেয়ে যাবেন।

কাজের পরিমাণ ও পারদর্শীতার ওপর নির্ভর করে এভাবে অনেক বেশি টাকাও আয় করা যায় এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে আপনি অনুবাদক হিসেবে কোনো পেশাজীবী সংগঠনেও যোগদান করার সুযোগ পেতে পারেন।

৪। প্রুফ রিডার

ইংরেজি গ্রামার অথবা বাংলা ব্যাকরণ – যেটাতেই আপনার পারদর্শীতা থাকুক, প্রুফরিডিং হতে পারে আপনার প্রিয় সাইড জব। অনেক প্রকাশনা সংস্থা বা গ্রন্থকাররা নিজেদের বই প্রকাশ হওয়ার আগে প্রুফরিডারের সাহায্য নিয়ে থাকেন। আর বিভিন্ন লেখকদের আর্টিকেল বা ব্লগ পোস্ট প্রুফ রিডিং এর সুযোগ তো আছেই।

শুধু ফ্রিল্যান্স নয়, চাকরি হিসেবেও এ ধরনের কাজ পাওয়া সম্ভব এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিজের ঘরে বসে আপনার সময় অনুযায়ী কাজ করে আয় করতে পারবেন।

৫। গৃহশিক্ষক

বাংলাদেশে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিউটরিং-এর প্রচলন অনেক দিন থেকে চলে আসছে। তবে কিছুদিন আগে পর্যন্তও অনলাইনে এ ধরনের কাজের সুযোগ ছিল খুব কম।

তবে লকডাউন ও পরবর্তী সময়ে আর সব কিছুর মতো গৃহশিক্ষকতারও অনলাইনে প্রসার হয়েছে অনেকটা। ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের ভিডিও কলের মাধ্যমে পড়ানো অথবা কোনো কোচিং এর সাথে যোগদান করার মাধ্যমে সহজেই আপনি একটি ভালো অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ আয় করতে পারেন। এর জন্য কোনো ডিগ্রি বা কোর্সেরও প্রয়োজন নেই। যদি আপনি গণিত, রসায়ন বা এ ধরনের একাডেমিক কোনো বিষয়ে অনেক জানেন এবং শিক্ষকতার প্রতি আগ্রহ থাকে তাহলেই গৃহশিক্ষক হিসেবে সফলতার সাথে কাজ করা সম্ভব।

৬। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার

সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া কোনো ব্যবসা বা কোম্পানি আজকাল কল্পনাই করা যায় না। একটা কোম্পানি আছে, তার মানে তার একটা সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ আছে। এবং সম্ভাবনা হচ্ছে সেই পেইজ ম্যানেজ করার জন্য তাদের কমপক্ষে একজন সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ দরকার।

অনেক ক্ষেত্রেই এই কাজের জন্য কাউকে ফুল-টাইম হায়ার না করে কোম্পানিগুলো পার্ট টাইম বা ফ্রিল্যানসার খোঁজে। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে ভালোবাসেন এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তাহলে দিনের কিছুটা সময় ব্যয় করে কোনো কোম্পানি বা ব্যবসা সংস্থাকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজ করতে সাহায্য করতে পারেন।

৭। ব্লগার

ব্লগিং এখনকার সময়ে বেশ পরিচিত একটি উপার্জন মাধ্যম। আপনার যদি কন্টেন্ট তৈরির ব্যাপারে আগ্রহ থাকে এবং যে কোনো বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকে, আপনিও শুরু করতে পারেন নিজের একটি ব্লগ।

একটি ব্লগ শুরু করার পেছনে প্রথম দিকে অনেক পরিশ্রম দিতে হলেও একবার তা মোটামুটি পরিচিত হয়ে গেলে তা থেকে বেশ ভালো আয় করা যায়। ডিসপ্লে অ্যাড থেকে শুরু করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পর্যন্ত নানা উপায়ে ব্লগ থেকে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করা যায়। ইচ্ছা থাকলে একসময় আপনি নিজের এই ব্লগে ফুল-টাইমও কাজ করতে পারবেন।

৮। কণ্ঠশিল্পী

যদি আপনার সুমধুর কণ্ঠ এবং সুন্দর ভাবে কথা বলার পারদর্শীতা থাকে, তাহলে আপনি বিভিন্ন অ্যাডভার্টাইজিং এবং অ্যাকটিং এজেন্সিতে ভয়েসওভার শিল্পী হিসেবে অ্যাপ্লাই করতে পারেন। অনেক এজেন্সিতে এ ধরনের কাজের জন্য তাদের স্টুডিওতে যেতে হয়, আবার অনেকেই আপনাকে বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দিতে প্রস্তুত।

আপনার যদি রেকর্ডিং এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং ভালো ইন্টারনেট সংযোগ থাকে তাহলে সহজেই নিজের বাসা থেকে ভালো মানের ভয়েসওভার রেকর্ড করে এজেন্সিকে পাঠিয়ে দিতে পারবেন অল্প সময়ের মাঝেই।

৯। সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার

এটি এমন একটি উপার্জন মাধ্যম যাতে অনেক ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় আয় করার জন্য। অনেক সময় ও পরিশ্রমের পর সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে অর্থ উপার্জন করা যায়। তবে আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার সাথে আপনার কন্টেন্ট শেয়ার করতে পছন্দ করেন, তাহলে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি কিছুটা মনোযোগী হতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা সাধারণত অন্যান্য সেলেব্রিটিদের মতো না, এর জন্য আপনার অভিনয়ে পারদর্শী হওয়া জরুরি নয়। ব্লগের মতোই যে কোনো বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা থাকলে আপনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যেমন ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদিতে একটি ফলোয়িং গ্রুপ গড়ে তুলতে পারবেন যা পরবর্তীতে বিজ্ঞাপন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, এমনকি আপনার নিজের তৈরি কন্টেন্ট টেম্পলেট ও অন্যান্য প্রডাক্ট বিক্রিতে সাহায্য করবে।

১০। ভার্চুয়াল অ্যাসিসটেন্ট

আপনার যদি ভালো সাংগঠনিক জ্ঞান থাকে এবং মানুষকে সাহায্য করতে ভালোবাসেন, তাহলে ভার্চুয়াল আসিস্টেন্টের কাজটি আপনার জন্য একদম উপযোগী।

দেশ ও দেশের বাইরের সফল ব্যবসায়িক ও ম্যানেজাররা তাঁদের জন্য ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হায়ার করে থাকেন। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরির ওয়েবসাইটে এ ধরনের কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। একজন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের দায়িত্বের মধ্যে ইমেইল ম্যানেজ করা, বুককিপিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজ করা, বিভিন্ন রিপোর্ট ও কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা ইত্যাদি পড়ে।

১১। ইউটিউবার

ভিডিও বানাতে ভালোবাসেন? কোনো বিষয়ে বিপুল জ্ঞান বা আগ্রহ আছে? অভিনয় বা প্রেজেন্টেশনে সফল না হলেও ইউটিউব আপনাকে দিয়েছে এই আগ্রহটাকে কাজে লাগানোর সুযোগ।

ব্লগিং অথবা ইনফ্লুয়েন্সিং এর মতো ইউটিউবার হিসেবে নাম কামাতেও অনেকটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু যথেষ্ট সাবস্ক্রাইবার পেয়ে গেলে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করে বেশ ভালো অর্থ উপার্জন করা যায়।

শুধু টাকা নয়, আপনার সৃজনশীলতাকে প্রসারিত হওয়ার সুযোগ দিতেও এ ধরনের একটি ‘সাইড হাসল’ উপকারী। যথেষ্ট চেষ্টা থাকলে পরবর্তীতে নিজের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবেও ইউটিউবিং করা সম্ভব।

১২। কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ

অফিস শেষে সন্ধ্যাবেলা অথবা ছুটির দিনের অতিরিক্ত সময়টা কাজে লাগাতে পারেন পার্ট টাইম কাস্টমার সার্ভিসের কাজ করে। ক্লায়েন্টদের সাথে কথা বলা, বিভিন্ন সার্ভিস দিতে কোম্পানিকে সহায়তা করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া – এই সবকিছু হবে আপনার কাজের অংশ। এ ধরনের একটি পজিশন কিছু অতিরিক্ত আয় এবং পাশাপাশি আপনার সিভিকে একটু ভারী করতে খুবই কার্যকরী।

এই ধরনের কাজ সাধারণত ফ্রিল্যান্স নয়, বরং পার্ট টাইম চাকরি হিসেবে করতে হয়। তাই নিজের পছন্দ মতো যে কোনো সময়ে কাজ করার সুযোগ কিছুটা কম। তবে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যদি সময় থাকে তাহলে বিভিন্ন সংস্থায় পার্ট টাইম রিপ্রেজান্টেটিভ হিসেবে অ্যাপ্লাই করতে পারেন।

প্রকৃতপক্ষে, ইচ্ছা থাকলে অতিরিক্ত আয় করার অনেক উপায় আছে যার মধ্যে অনেকগুলোই করা যায় ঘরে বসে। এ ধরনের কাজের উদ্দেশ্য শুধু অর্থ উপার্জন নয়, বরং আপনার পছন্দের কাজটার পেছনে সময় দেওয়া। তাই আপনার কোন কাজটা করতে ভালো লাগে, ঠিক কোন কাজের পেছনে আপনি সময় দিতে চান তা খুঁজে বের করাই সবচেয়ে জরুরি।