চাকরি পাবার সম্ভাবনা বাড়াতে কার্যকরী সিভি তৈরির কিছু টিপস

November 16, 2020 |
Views: 751

সিভি লেখা একটি সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিরক্তিকর কাজ। তার ওপর দিয়ে আমরা অনেকেই সিভি লেখার সঠিক পদ্ধতি জানি না। কিন্তু একটি আকর্ষণীয় সিভি আপনাকে সুযোগ করে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পাওয়ার। কারণ প্রায় সব কোম্পানির হায়ারিং প্রসেসের প্রথম ধাপ সিভি যাচাই করা। আপনার সিভিতে যদি সঠিক তথ্যগুলো না থাকে তাহলে বেশি সম্ভব আপনি ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগই পাবেন না।

একটি উপযুক্ত সিভি তৈরি করা কতোটা জরুরি তা তো বোঝা গেল, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে তৈরি করবেন স্বপ্নের চাকরি পাওয়ার এই চাবিকাঠি? তার জন্য সবার আগে আমাদের জানতে হবে সিভি কী এবং চাকরিদাতারা কীভাবে সিভি যাচাই করেন।

সিভি কী?

সিভি শব্দটি ‘কারিকুলাম ভিটা’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ল্যাটিন এই শব্দদুটোর অর্থ হলো জীবনের গতিপথ। আপনি কে, আপনার যোগ্যতা কী এবং কীভাবে আপনি চাকরিদাতা কোম্পানিকে সাহায্য করতে পারবেন – এই সবকিছু কাঠামোগতভাবে উপস্থাপন করাই সিভির উদ্দেশ্য।

একটি ভালো মানের সিভি আপনার শিক্ষা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব ও অর্জনগুলোর ওপর আলোকপাত করে এবং আপনি কেন কাঙ্ক্ষিত চাকরির জন্য উপযোগী তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করে। শুধু বাংলাদেশ নয়, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশে চাকরি দেওয়ার বেলায় সিভিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

বাংলাদেশেও সরকারি চাকরি ব্যতীত প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই চাকরি পাওয়ার জন্য সিভি তৈরি করা জরুরী।

চাকরিদাতারা কীভাবে সিভি যাচাই করেন?

প্রতিটি চাকরির সার্কুলার লেখার আগে চাকরিদাতারা একটি তালিকা তৈরি করেন, যে তালিকায় চাকরি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগুত গুণাবলীর উল্লেখ থাকে। এই তালিকার ওপর ভিত্তি করেই এরপর তাঁরা সার্কুলারটি তৈরি করেন। পরবর্তীতে সিভি যাচাই করার সময় তাতে তালিকাভুক্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাগুলোর নমুনা খোঁজা হয় এবং আপনার সিভি তাঁদের প্রয়োজনীয়তাগুলোর সাথে কতোটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আপনি চাকরিটির জন্য উপযুক্ত কিনা।

একটি গবেষণায় জানা গেছে, চাকরিদাতারা প্রতিটি সিভি দেখার পেছনে গড়ে ৬ সেকেন্ড সময় ব্যয় করেন। এবং সেই ৬ সেকেন্ড সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেন –

আপনার নাম
বর্তমান টাইটেল/কোম্পানি
এর আগের টাইটেল/কোম্পানি
পূর্ববর্তী চাকরির শুরু ও শেষের তারিখ
বর্তমান চাকরির শুরু ও শেষের তারিখ
পড়াশোনা

এই অংশুগুলোকে সিভির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করা হয়, তাই সিভি তৈরির সময় এই সব অংশের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

আপনার সিভি লেখা কীভাবে শুরু করবেন?

যদিও সিভি লেখার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, তবে নিজের সিভি তৈরি করার আগে একটি পরিকল্পনা থাকা জরুরি। নিচের প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করে আপনি সহজেই একটি সিভি তৈরি করতে পারবেন।

১। চাকরির বিবরণটি যত্নের সাথে পড়ুন

সিভি তৈরি শুরু করারও আগে আপনি যে চাকরিতে অ্যাপ্লাই করতে চাচ্ছেন তা ভালোভাবে জেনে নেওয়া খুবই জরুরি। যে কোম্পানি সার্কুলারটি দিয়েছে তাঁদের সম্পর্কে কিছু জ্ঞান থাকাও এ ক্ষেত্রে সহযোগী। কোম্পানিটির কাজ কী, তাঁরা তা কীভাবে করেন এবং, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁরা আপনার কাছ থেকে কী আশা করছেন – এ সব কিছু ভালোভাবে নোট করে নিয়ে তার পর সিভি লিখতে বসুন।

চাকরির বিবরণী পড়ার সময় কিছু বিষয়ের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন –

চাকরির টাইটেলটি দেখে এ বিষয়ে কিছু তথ্য যোগাড় করুন। এই চাকরির দায়িত্বগুলো সাধারণত কী হয়ে থাকে এবং সেই সম্ভাব্য কাজগুলোর একটি তালিকা তৈরি করুন।
বিবরণীতে চাকরিদাতা কী কী গুরুত্বপূর্ণ স্কিলের কথা উল্লেখ করেছেন তা লক্ষ্য করুন এবং সেই স্কিলগুলোকে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন।
চাকরিদাতারা আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরির বর্ণনা দেওয়ার জন্য যে কথাগুলো ব্যবহার করেন (যেমন – must be responsible, honest and result-driven) সেগুলো আপনার সিভিতে যুক্ত করার চেষ্টা করুন।
ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পর্কিত এক্রোনেম বা বিশেষ কিছু শব্দ ব্যবহার করুন যা চাকরির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।

চাকরিদাতারা যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন চাকরির বর্ণনা দিতে সে ধরনের শব্দ আপনার সিভিতে যুক্ত করার চেষ্টা করুন, এতে করে আপনার সিভি যাচাই করার সময় তা বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হবে।

২। সঠিক ফরমেট বেছে নিন

সিভি লেখার ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকলেও একটি নির্দিষ্ট ফরমেট অনুসরণ করে সিভি লেখা আবশ্যক। আপনার ক্যারিয়ার গোলের ওপর নির্ভর করে নিজের জন্য সঠিক ফরমেটটি বেছে নিন এবং সেই অনুযায়ীই সিভিটি সাজান।

কিছু বহুল-ব্যবহৃত সিভি ফরমেটের বিশেষ দিকগুলো এখানে তুলে ধরছি, আপনার জন্য সঠিক ফরমেটটি বেছে নিয়ে সেই অনুযায়ী পরবর্তী ধাপগুলোর প্রস্তুতি নিন।

ট্রেডিশনাল বা কালানুক্রমিক ফরমেট

এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একটি সিভি ফরমেট। এই ফরমেটে আপনার অভিজ্ঞতাগুলোকে সময়ের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করা হয়, যাতে সবচেয়ে নতুন অভিজ্ঞতাটি সবার ওপরে থাকে এবং আগের অভিজ্ঞতাগুলো নিচের দিকে থাকে। ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে চাইলে এ ধরনের ফরমেট ব্যবহার করতে পারেন।

যোগ্যতাভিত্তিক বা ফাংশনাল ফরমেট

কারও স্কিল, অভিজ্ঞতা ও অর্জনগুলোর ওপর প্রাধান্য দিতে এ ধরনের সিভি তৈরি করা হয়। আপনার পূর্ববর্তী চাকরি বা অভিজ্ঞতার দিকে আলোকপাত না করে বরং এই কাজগুলো করতে গিয়ে আপনার কী কী অভজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে তার ওপর আলোকপাত করে এই ফরমেট। ট্রেডিশনাল ফরমেটের মতো জনপ্রিয় না হলেও এ ধরনের সিভি আপনার যোগ্যতাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করতে পারে।

ক্যারিয়ার বা ইন্ডাস্ট্রি পরিবর্তন করে ভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়ার জন্য এ ধরনের সিভি বেশি কার্যকরী।

সম্মিলিত ফরমেট

এই ফরমেটটি মূলত ট্রেডিশনাল ও ক্রনোলজিকাল সিভির সম্মিলিত রূপ। এ ধরনের সিভি স্বাভাবিকভাবেই একটু বড় হয়। দুই ধরনের সিভির ভালো দিকগুলোর সম্মেলনের কারণে এই ফরমেটটি দিন দিন জনপ্রিয়তা লাভ করছে। ম্যানেজমেন্ট অথবা এক্সিকিউটিভ পোস্টে অ্যাপ্লাই করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিভি বেশি কার্যকরী হতে পারে।

এই তিনটি ফরমেট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলেও আরও কিছু সিভি ফরমেট (যেমন – অ্যাকাডেমিক, টেকনিকাল ইত্যাদি) আছে যা বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে যে ফরমেটই ব্যবহার হোক, কিছু জিনিস সবসময় মাথায় রাখতে হবে।

সিভির একটি সঠিক গঠন থাকতে হবে।
সিভিটি হতে হবে তথ্যবহুল কিন্তু সংক্ষিপ্ত।
এটি হতে হবে যথাযথ ও আকর্ষণীয়।
লেখা হতে হবে পরিষ্কার ও সহজ।
কাঙ্ক্ষিত চাকরি বা ইন্ডাস্ট্রিকে লক্ষ্য রেখে তৈরি হতে হবে।
তথ্য, বানান ও ব্যাকরণের দিক থেকে সঠিক হতে হবে।

এই ছয়টি নিয়ম ইন্ডাস্ট্রি ও অভিজ্ঞতা নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ বেশির ভাগ চাকরিদাতা সর্বপ্রথম আপনার সিভিই দেখবেন এবং প্রথম দেখাতেই যদি তাঁদের ভালো না লাগে তাহলে পরবর্তীতে মন পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।

৩। সঠিক তথ্য ব্যবহার করুন

ফরমেট বেছে নেওয়ার পরবর্তী পর্যায়ে আপনার সিভির ‘কন্টেন্ট’ নিয়ে চিন্তা শুরু করতে হবে। বেশির ভাগ সিভি, তা যেই পর্যায়ের বা ফরমেটেরই হোক না কেন, কম-বেশি নিচে উল্লেখিত অংশুগুলো নিয়েই গঠিত।

ব্যক্তিগত তথ্য

আপনার নাম, ঠিকানা, ইমেইল, লিঙ্কডইন প্রোফাইলের ঠিকানা এবং অন্য যে কোনো কন্টাক্ট এখানে যোগ করতে পারেন। এই সেকশনটিই সাধারণত আপনার সাথে যোগাযোগ করার সময় ব্যবহার করা হয়, তাই এইদিকে বিশেষ মনোযোগ দিন।

ক্যারিয়ারের সারসংক্ষেপ

এটি মূলত তিন থেকে চার লাইনের একটি ছোট্ট প্যারাগ্রাফ যাতে ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থাকবে। এই সেকশনে আপনার কত বছরের অভিজ্ঞতা, কী কী কাজে আপনি বেশি অভিজ্ঞ, ব্যক্তি হিসেবে আপনার গুণাবলী এবং আপনার ক্যারিয়ার গোলগুলো উল্লেখ করতে ভুলবেন না।

চাকরিক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা

এই অংশে আপনার বর্তমান ও পূর্ববর্তী চাকরি, ইন্টার্নশিপ ও ভলান্টিয়ারী অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেই সব চাকরিতে আপনার দায়িত্ব ও প্রাসঙ্গিক অর্জনগুলোও উল্লেখ করুন। যে চাকরিতে অ্যাপ্লাই করছেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্কিলগুলো উপস্থাপন করা যায় এমন দায়িত্ব ও অর্জনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

এই অংশে আপনার SSC ও পরবর্তী অ্যাকাডেমিক অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠান ও পাশের বছর উল্লেখ করুন। এর পাশাপাশি ছাত্র থাকাকালে যেসব প্রজেক্ট, থিসিস অথবা কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন তার মধ্যে থেকে শুধু কাঙ্ক্ষিত চাকরির সাথে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাগুলো উল্লেখ করুন। যদি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা চাকরির ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পর্কিত না হয়, তাহলে শিক্ষার্থী অবস্থায় আপনি কী কী প্রাসঙ্গিক স্কিল অর্জন করেছেন তা উল্লেখ করার চেষ্টা করুন।

বিশেষ দক্ষতা

কাঙ্ক্ষিত ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পর্কিত স্কিলগুলো উল্লেখ করা হয় এই অংশে। তবে শুধু স্কিলের তালিকা তৈরি না করে এর সাথে সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা অথবা অর্জন উল্লেখ করার চেষ্টা করুন। চাকরির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত দক্ষতার পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ যোগ্যতা, যেমন টিমের সাথে কাজ করার মনোভাব বা লিডারশিপ স্কিলও এই অংশে উল্লেখ করতে পারেন।

ভাষায় দক্ষতা

আপনি কোন কোন ভাষায় যোগাযোগ করতে সক্ষম এবং সেসব ভাষায় কতোটা পারদর্শী তা উল্লেখ করুন এই অংশে। এই সেকশনটি সব সময় জরুরি নয়, তবে বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করতে হলে ইংরেজিতে পারদর্শী হওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি দেশের বাইরের কোনো কোম্পানিতে চাকরির আবেদন করতে চাইলে এই সেকশনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পুরস্কার ও অর্জন

এই সেকশন আপনাকে সুযোগ করে দেবে আপনার জয়ের কথাগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার। ছাত্রজীবন অথবা তার পরে আপনার ভালো কোনো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে যেসব সার্টিফিকেট বা পুরস্কার পেয়েছেন সেগুলো এই অংশে উল্লেখ করুন। এমনকি বাস্তব জীবনে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখার অভিজ্ঞতাও উল্লেখ করতে পারেন, অবশ্যই তা হতে হবে চাকরির সাথে প্রাসঙ্গিক। কোনো সার্টিফিকেশন বা মেম্বারশিপের কথা লিখতে চাইলে যথাযথ সংস্থার নাম এবং মেম্বারশিপ শুরু ও শেষের তারিখ উল্লেখ করতে ভুলবেন না।

শখ ও আগ্রহ

সাধারণত জরুরি না হলেও আপনার যদি এমন কোনো শখ বা আগ্রহ থাকে যা কাঙ্ক্ষিত চাকরিটির জন্য আপনার যোগ্যতা বাড়ায়, তাহলে এই অংশে সেই শখের কথা লিখুন। এতে করে চাকরিদাতার দৃষ্টিতে আপনার যোগ্যতা আরও দৃঢ় হবে।

রেফারেন্স

এই পর্যায়ে সাধারণত চাকরিদাতারা রেফারেন্স যাচাই করেন না। তবে যদি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া হয়, তাহলে আপনার সিভিতে রেফারেন্সের একটি অংশ তৈরি করুন।

৪। প্রফেশনাল লেভেল সম্পর্কে জানুন

এন্ট্রি লেভেল

একটি এন্ট্রি-লেভেল চাকরি সাধারণত

কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অথবা মাত্র গ্র্যাজুয়েট হওয়া ব্যক্তির জন্য উপযোগী
তিন বছরের কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্যও উপযোগী
তুলনামূলকভাবে কম বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে

এ পর্যায়ের চাকরির ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ফাংশনাল অথবা সম্মিলিত ফরমেটের সিভি বেশি উপযোগী। কারণ চাকরিদাতারাও জানেন যে আপনি মাত্রই পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং চাকরিক্ষেত্রে খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই। তাই অভিজ্ঞতার দিকে কম গুরুত্ব দিয়ে আপনার স্কিল সেকশনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিন।

মিড-লেভেল

একটি মিড-লেভেল চাকরি সাধারণত

৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
লিডারশীপ ও ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তির জন্য উপযোগী
অভিজ্ঞতা ও পারফর্মেন্সের ওপর নির্ভর করে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে

এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে ট্রেডিশনাল ফরমেটটাই সবচেয়ে কার্যকরী। পাশাপাশি নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাগুলোকে আরও প্রফেশনালভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন। পার্ট টাইম ও ইন্টার্নশিপ চাকরিগুলো বাদ দিয়ে এন্ট্রি লেভেল চাকরির সময়ে আপনার অর্জনগুলোর ওপর আলোকপাত করার চেষ্টা করুন।

এক্সিকিউটিভ/ম্যানেজার লেভেল

একটি এক্সিকিউটিভ লেভেলের চাকরি সাধারণত

১০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
ম্যানেজমেন্ট ক্ষেত্রে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য উপযোগী
অতি মাত্রায় প্রতিযোগিতামূলক এবং তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দেয়

এই পর্যায়ের একটি চাকরিতে অ্যাপ্লাই করতে হলে আপনার সিভি খুবই মূল্যবান। সিভিটি হতে হবে প্রফেশনাল ও আকর্ষণীয়। আপনার কর্তৃত্ব, নির্ভুলতা ও ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কিত জ্ঞানের ছাপ থাকতে হবে এতে। এই পর্যায়ে সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি হচ্ছে ট্রেডিশনাল ফরমেটকে বিপরীতভাবে সাজানো, যাতে করে আপনার পুরনো অভিজ্ঞতাগুলো শুরুতে থাকে এবং নতুন অভিজ্ঞতা থাকে সবার শেষে। মিড-লেভেল সিভির মতোই চাকরিক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত কর্তব্য ও অর্জনগুলো যতটা সম্ভব যথাযথভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন।

এই সবকিছু শেষে অবশ্যই সিভি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখে নিন। সব প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে কিনা, কোথাও কোনো বানান বা ব্যাকরণজনিত ভুল আছে কিনা এবং আপনার যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কিনা।

ভিন্ন ভিন্ন চাকরি বা ইন্ডাস্ট্রির জন্য আলাদা সিভি তৈরি করুন এবং প্রতিবার কোথাও সিভি জমা দেওয়ার আগে সেই চাকরিটির জন্য সিভি যত্নের সাথে প্রস্তুত করুন। নিয়মিত আপডেট করার মাধ্যমেই আপনি সিভি লেখায় দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং একটি আকর্ষণীয় সিভি তৈরি করতে পারবেন।