কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার উপায়

November 3, 2021 |
Views: 125

আজকের যুগে প্রায় সব কাজের জন্যই একটা না একটা ‘অ্যাপ’ পাওয়া যায়। সফটওয়্যার ডেভেলপার আর ইঞ্জিনিয়াররা সফটওয়্যার ব্যবহার করে নানান সমস্যার সমাধান করেন, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া সহজ বানানোর চেষ্টা করেন অথবা কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে আরেকটু ভালো অভিজ্ঞতা দিতে চান। কিন্তু কোডিং ছাড়া কোনো সফটওয়্যারই তৈরি সম্ভব নয়। এ কারণেই যেকোনো অ্যাপলিকেশন তৈরিতে প্রোগ্রামারের ভূমিকা অপরিহার্য। আপনার যদি সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা এবং কোডিং ল্যাংগুয়েজের জ্ঞান থাকে, তাহলে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হতে পারে আপনার জন্য উপযুক্ত ক্যারিয়ার।

কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে চাকরি পেতে হয়তো আপনাকে একটু কষ্ট করতে হবে। কিন্তু এই কষ্টের ফলাফল আপনাকে নিরাশ করবে না। কারণ এই ক্যারিয়ারে ঢুকেই আপনি পেয়ে যাবেন যথেষ্ট বেতন এবং অগ্রগতির অনেক সুযোগ।

তাহলে চলুন জেনে নেই কী উপায়ে গড়তে পারেন বর্তমান যুগে অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্যারিয়ার!

কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে আপনাকে কী কী কাজ করতে হবে?

কম্পিউটার প্রোগ্রামার বা কোডার হলেন এমন একজন টেকনলজি প্রফেশনাল যিনি বিভিন্ন কোডিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে কাজ করেন। সফটওয়্যার ডেভেলপার ও ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যকরীভাবে কোড লেখাই মূলত প্রোগ্রামারদের কাজ। তাঁরা সাধারণত পাইথন, জাভা, জাভাস্ক্রিপ্ট, সি, সি++, এইচটিএমএল, পিএইচপি এবং এসকিউএল নিয়ে কাজ করে থাকেন। এইসব ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে তাঁরা কম্পিউটার অ্যাপলিকেশনের জন্য নির্দেশনা লিখতে পারেন যা ব্যবহার করে কম্পিউটার নানান কাজ সম্পাদন করতে পারে।

সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ডিজাইনকে কার্যকর অ্যাপলিকেশনে পরিণত করতে দরকার সঠিক কোডিং। আর এর জন্য প্রয়োজন একজন দক্ষ প্রোগ্রামার। প্রোগ্রামাররা কম্পিউটার অ্যাপলিকেশন সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোড লেখেন এবং টেস্ট করেন। এছাড়া তাঁরা প্রোটোটাইপ অ্যাপলিকেশন টেস্ট করে তা নির্ভুলভাবে কাজ করছে কিনা সেটাও যাচাই করেন।

কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের আরও কিছু কাজের মধ্যে পড়ে –

প্রোগ্রামে কোনো ‘Error’ আছে কিনা তা খুঁজে বের করে তা ঠিক করা।
পুরোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম আপডেট করা ও তাতে নতুন ফাংশন সংযোজন করা।
কোড লাইব্রেরি ব্যবহার করে পুরোনো কোডকে সহজ করে লেখা।
ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে কোড লেখা ও টেস্ট করা।
Software as a Service সুবিধা ব্যবহার করে একাধিক অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করে এরকম কোড লেখা।

কম্পিউটার প্রোগ্রামাররা সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেম ডিজাইন বা এ ধরনের সার্ভিস সেক্টরে কাজ করেন। কেউ কেউ আবার সরাসরি সফটওয়্যার পাবলিশার, ইন্স্যুরেন্স ফার্ম অথবা পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানির সাথেও কাজ করেন। আবার অনেকেই কোনো কোম্পানিতে কাজ না করে ফ্রিল্যান্স বা নিজস্ব প্রজেক্টে কাজ করে থাকেন। একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে আপনি যেমন একা কাজ করতে পারবেন, তেমনি বড় প্রজেক্টের ক্ষেত্রে অন্য কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের সাহায্যও নিতে পারবেন। যেহেতু কোডিং যে কোনো জায়গা থেকেই করা সম্ভব, আপনার কাছে অনেক রিমোট চাকরির সুযোগও থাকবে।

কীভাবে শুরু করবেন এই ক্যারিয়ার?

কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে চাকরি পেতে চাইলে অবশ্যই আপনার প্রোগ্রামিং-এ দক্ষ হতে হবে। এর জন্য সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি অথবা সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে পড়াশোনা এবং কোডিং ল্যাংগুয়েজ নিয়ে বিস্তারিত ধারণা প্রয়োজন হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সবক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএস ডিগ্রি প্রোগ্রাম রয়েছে যা আপনাকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করবে। তবে সব প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ারের জন্য ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকা জরুরী না। অনেক কোম্পানিই ব্যাচেলর ডিগ্রি ছাড়াও সহযোগী অন্য কোনো ডিগ্রি আছে বা চাকরির জন্য দরকারি দক্ষতা আছে এমন প্রার্থীও নিয়োগ দেয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরী বিষয়টা হচ্ছে আপনার কোডিং দক্ষতা।

কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনার অ্যাকাডেমিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোর্সগুলো হলো –

গণিত, ক্যালকুলাস, পরিসংখ্যান অথবা বীজগণিতীয় ম্যাট্রিক্স
সফটওয়্যার ডিজাইন এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার
জাভা প্রোগ্রামিং
সি++ এবং পাইথনের মতো কোডিং ল্যাংগুয়েজ

কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ শেখার এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের চমৎকার একটি উপায় হচ্ছে ইন্টার্নশিপ। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রির শেষ দিকে কিছুদিনের জন্য ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ থাকে। আবার বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানিতেও সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের ইন্টার্নিশিপের সুযোগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তথ্যের জন্য আপনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা বিভিন্ন চাকরির পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে প্রকাশিত ইন্টার্নশিপের দিকে নজর রাখতে পারেন।

যদিও প্রোগ্রামিং জানার জন্য সার্টিফিকেট অর্জন জরুরী নয়, তবে অনেক চাকরিদাতা বিশেষ কোডিং ল্যাংগুয়েজ বা টেকনোলজিতে সার্টিফিকেট আছে এরকম প্রার্থীদেরকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাই আপনি যে টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন তাতে একটা সার্টিফিকেট অর্জন আপনাকে বিশেষ সুবিধা দেবে।

এর জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউশনে প্রোগ্রামারদের জন্য সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম রয়েছে। এছাড়া কিছু ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনি বিশেষ কোনো কোর্সেও সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারবেন। Udemy এবং LinkedIn Learning-এ নতুন ও আধুনিক টেকনোলজি বিষয়ক অনেক কোর্স রয়েছে। এমনকি সিএস গ্র্যাজুয়েটদের নতুন টেকনোলজি সম্পর্কে জানা বা আগের জ্ঞান ঝালাই করে নেওয়ার জন্য Udemy-এর কোর্সগুলো অনেক উপযোগী। এবং এসব কোর্স থেকে অর্জিত সার্টিফিকেট সিভিতে যোগ করে নিজের স্কিলকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

কম্পিউটার প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য কতোদিন পড়াশোনা করতে হতে পারে?

ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করতে চার বছর সময় প্রয়োজন হয়। এছাড়া অন্যান্য কোর্স ও সার্টিফিকেশনের জন্য কতোটা সময় দিচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। আর ইন্টার্নশিপ সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের হয়ে থাকে।

অনেকেই নিশ্চয়ই জানতে চাইছেন যে এতো কষ্ট করে পড়াশোনা করার এবং কোডিং-এ দক্ষতা অর্জন করার পর চাকরিতে ঢুকে আপনি কতোটা আয় ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন? Glassdoor-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রোগ্রামার পদে মাসিক বেতন গড়ে ৩৫,০০০ টাকা। এছাড়াও অধিকাংশ কোম্পানিতে বেতনের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট সময় পর পর বোনাস দেয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ কোডার ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে নতুন জিনিস শেখার সুযোগ তো থাকছেই!

কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে চাকরি খুঁজবেন কীভাবে?

যে কোনো চাকরির খোঁজে প্রথম ধাপটা হচ্ছে সিভি তৈরি। আপনার স্কিল, অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা যথাযথভাবে উপস্থাপন করে এমন একটি সিভি তৈরি করে নিন।

চাকরি খোঁজার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে লিংকডইন, এবং বিভিন্ন জব পোর্টালের সাহায্য সন্ধান শুরু করতে পারেন। চাকরি অ্যাপে ফ্রি জবসিকার অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে প্রোফাইল পূরণ করে ফেলুন। প্রোগ্রামার হিসেবে চাকরির বিজ্ঞপ্তি আসলে ইমেইলে পাঠানো নোটিফিকেশন থেকে মুহূর্তের মধ্যেই আবেদন করে ফেলতে পারবেন।

সফল প্রোগ্রামার হওয়ার পথে আপনার এই যাত্রার জন্য শুভকামনা!