অর্থনীতি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য উপযুক্ত ৬টি ক্যারিয়ার

September 13, 2021 |
Views: 240

হয়তো আপনি এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন অথবা হয়তো মাত্র গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। যেটাই হোক না কেনো অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে কোন প্রফেশন বেছে নেবেন সে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অর্থনীতির ডিগ্রি থেকে অর্জিত দক্ষতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেক পেশায়ই সফল হওয়া সম্ভব।

কোন প্রফেশনটি আপনার জন্য পার্ফেক্ট সেই সিদ্ধান্ত নিতে হলে আগে সামনের সুযোগ গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরী। তাই চলুন জেনে নেই এমন ৬টি ক্যারিয়ারের বিস্তারিত!

১। অর্থনীতিবীদ

অর্থনীতিবীদদের কাজ হচ্ছে অর্থনৈতিক ট্রেন্ড কোন দিকে যেতে পারে তার পূর্বাভাস দেওয়া। সফটওয়্যার এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করার দক্ষতা ব্যবহার করে তাঁরা এ কাজ করে থাকেন। অর্থনীতিবীদদের বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া এই তথ্য বিভিন্ন সংস্থা, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারসহ বিভিন্ন জায়গায় পরামর্শরূপে ব্যবহার হয়।

অর্থনীতিবীদ হিসেবে কাজ করতে চাইলে প্রথমত আপনার অর্থনীতিতে একটি ডিগ্রি থাকতে হবে। অনেক চাকরিদাতা আবার অর্থনীতিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনধারী আবেদনকারীদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে প্রয়োজনে কোনো গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং স্কিমে অংশগ্রহণ করেও অর্থনীতিবীদ হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব।

২। বিনিয়োগ বিশ্লেষক

এই পেশায় মূল কাজ হচ্ছে ব্যবসায়ী, ফান্ড ম্যানেজার এবং স্টকব্রোকারদের গবেষণামূলক তথ্য দিয়ে বিনিয়োগ করতে সাহায্য করা। এই কাজের জন্য আপনাকে রিসার্চ করা ও রিপোর্ট লেখায় খুবই দক্ষ হতে হবে। আপনার ক্লায়েন্ট কোনো সংস্থা হোক বা ব্যক্তি – তার বিনিয়োগের পোর্টফোলিও নির্ভর করবে আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর।

যে কোনো বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেই বিনিয়োগ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা যায়। কিন্তু অনেক চাকরিদাতা শুধুমাত্র অর্থনীতি বা সম্পর্কিত কোনো বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটদেরই আবেদন গ্রহণ করেন। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে অভিজ্ঞতা থাকাটাকে সব কোম্পানিই গুরুত্ব দেয়। তাই চাকরি করেই হোক বা ইন্টার্নশিপ – ফিন্যান্স অথবা এ ধরনের কোনো ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে আপনার বিনিয়োগ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া সহজ হবে।

৩। বহিঃনিরীক্ষক

একজন বহিঃনিরীক্ষকের কাজ হচ্ছে আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য নিরীক্ষা করে কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও বাজার নিয়ন্ত্রকদের সেই কোম্পানির পারফর্মেন্স সম্পর্কে রিপোর্ট প্রদান করা। এছাড়া তাঁরা অর্থনৈতিক ঝুঁকির সম্ভাবনা যাচাই করে সে বিষয়ে কোম্পানিকে সচেতনও করে থাকেন। আপনার যদি অনুসন্ধানমূলক কাজ করতে ভালো লাগে তাহলে বহিঃনিরীক্ষক হতে পারে আপনার উপযুক্ত পেশা।

বহিঃনিরীক্ষক হিসেবে প্র্যাকটিস করার জন্য আপনার একটি সার্টিফিকেট নিতে হবে এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। হিসাবরক্ষণ বা অর্থনৈতিক প্রশাসন সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতা থাকালে আপনি সহজেই এই পেশায় ঢুকতে পারবেন।

৪। কমপ্লায়েন্স অফিসার

কোম্পানি তাদের অভ্যন্তরীণ নীতি ও নিয়ন্ত্রকদের নির্ধারণ করা নিয়ম ঠিকমতো মেনে চলছে কিনা তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব হচ্ছে একজন কমপ্লায়েন্স অফিসারের। নন-প্রফিট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থা সহ অনেক ইন্ডাস্ট্রিতেই কমপ্লায়েন্স অফিসারের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে।

কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে কাজ করার জন্য আসলে কোনো বিশেষ ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। কিন্তু অর্থনীতির গ্র্যাজুয়েট হিসেবে আপনার হিসাব-নিকাশের যে দক্ষতা আছে তা এই পেশায় আপনাকে সফল হতে সাহায্য করবে। এছাড়া ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো কাজ অথবা প্রশাসন, অর্থনীতি, অ্যাকাউন্টেন্সি বা কাস্টমার সার্ভিসে অভিজ্ঞতা থাকাও এই পেশায় আপনার বিশেষ কাজে দেবে।

৫। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট

চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের কাজ একটি কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা করা। প্রাইভেট ফার্ম এবং নন-প্রফিট সংস্থাসহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টরা কাজ করে থাকেন। বাজেট তৈরি, অর্থনৈতিক নিরীক্ষা, ট্যাক্স পরিকল্পনায় সাহায্য, অ্যাকাউন্টিং-এ অসামঞ্জস্যতা বা প্রতারণা খুঁজে বের করা – এ সব কিছুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের কাজের অংশ।

অর্থনীতির গ্র্যাজুয়েট হিসেবে আপনার হিসাব নিকাশে দক্ষতা, পদ্ধতিগতভাবে সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা এবং বিশ্লেষণী শক্তি এই পেশায় আপনাকে সাহায্য করবে। এছাড়া চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সির পরীক্ষা দিয়ে আপনাকে এই পেশায় কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

৬। তথ্য বিশ্লেষক

আপনি যদি রিসার্চ এবং তথ্য বিশ্লেষণে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে এই পেশা আপনার জন্য। তথ্য বিশ্লেষকরা বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করেন। তাঁদের ব্যাখ্যাকৃত তথ্য বিভিন্ন কোম্পানি, পরামর্শদাতা সংস্থা এবং অন্যান্য সংগঠনকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

যদিও অর্থনীতি, পরিসংখ্যান ও গণিত বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটদেরকে এই পেশায় প্রাধান্য দেওয়া হয়, কিন্তু অন্য বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেও তথ্য বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা সম্ভব। সরাসরি তথ্য বিশ্লেষক হিসেবে চাকরি না পেলে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

– অর্থনীতির গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে কোন স্কিলগুলো থাকা জরুরী?

যে পেশাই বেছে নেন না কেনো, অর্থনীতির ডিগ্রি আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্কিল শেখাবে যা যে কোনো পেশায়ই কাজে দেয়।

সঠিক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারা
প্রেজেন্টেশন স্কিল
বাণিজ্যিক দক্ষতা
বিশ্লেষণ এবং যুক্তির দক্ষতা
সমালোচনামূলক চিন্তার ক্ষমতা
তথ্য বিশ্লেষণ করার স্কিল
তথ্য ম্যানেজ করার দক্ষতা
রিপোর্ট লেখার দক্ষতা
সময়কে সঠিকভাবে ম্যানেজ করার ক্ষমতা

– উচ্চতর শিক্ষা

পছন্দের পেশা বেছে নেওয়ার পর তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো কোর্স বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি আপনাকে চাকরি পেতে সাহায্য করতে পারে। যদিও বেশির ভাগ পেশায় কাজ শুরু করতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু এই ডিগ্রি থেকে পাওয়া জ্ঞান এবং দক্ষতা ব্যবহার করে দ্রুত সফলতা অর্জন করা সম্ভব।